Tuesday, February 14, 2012

Sunamganj: Barbi-Q night at Tahirpur


Share at Facebook


ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়... এর বড় উদাহরণ আমি, একা একাই ঘুরে বেড়াই, কারো ধার ধারি না... আবারও একটা উদাহরণ তৈরী করলাম, এইবার আমাদের সুনামগঞ্জ ভ্রমনের সময়... হঠাত মনে হলো রাত্রে সময় কাটানোর জন্য বারবি-কিউ করতে পারলে ভালো হতো... যেই ভাবে সেই কাজ... আমাদের কাছে কোনো সরঞ্জাম না থাকার পরও অসাধারণ একটা বারবি-কিউ করলাম... এই লেখায় থাকছে কিভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চল তাহিরপুর বাজার থেকে জোড়াতালি দিয়ে সবকিছু যোগাড় করে বারবি-কিউ আয়োজন করলাম... অভিজ্ঞতাটা এতটাই মজার ছিল, সবার সাথে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না...

Friday, 03 February 2012



ভূমিকা:

এইবার সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমন করার জন্য আট জনের একটা গ্রুপ বানিয়ে চলে গেলাম তাহিরপুর. জায়গাটা বাংলাদেশের অন্যান্ন অঞ্চলের থেকে একটু বেশিই সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত. আমরা ছিলাম তাহিরপুর গেস্ট হাউসে. এইরকম জায়গায় রাত্রের বেলায় করার কিছুই থাকে না. আমার ভ্রমন সঙ্গীরা বলাবলি করছিলো রাত্রে বেলায় বারবি-কিউ করবে. কিন্তু বললেই তো আর সব হবে না, আমাদের কাছে কোনো সরঞ্জাম নাই. আর এইটাতো কক্স বাজার বা ঐরকম কোনো জায়গা না যে অর্ডার করলাম আর বারবি-কিউ কেউ করে দিল. সবাই আশা ছেড়ে দিলো. কিন্তু আমার মাথায় ছোট করে একটা বুদ্ধি এলো মাছ পুড়িয়ে খাবার. জিওগ্রাফি তে দেখেছি মাছ কে কলাপাতায় মুড়িয়ে কয়লার মধ্যে রেখে দিয়ে কিছুক্ষণ পুড়ানোর পরে খেতে. সবাইকে বললাম কথাটা. প্রথমে সবাই হেসে উড়িয়ে দিলেও, পরে চেষ্টা করে দেখতে দোষ কি মনোভাব নিয়ে নেমে পরলাম...

মাছে মশলা মাখানো


কমিটি গঠন:

আগেই বলে রাখি, সারা দিন আমদের অনেক ধকল গেছে. রাত্রে বাস ভ্রমন করে এসে আবার মোটর সাইকেলে করে তাহিরপুর এসে বেরিয়ে পড়েছিলাম টেকেরঘাটের দিকে ঘুরতে. সারাদিনে মুটামুটি ১৮/২০ কিলোমিটারের মতন হাটা হয়েগেছে. তাই আমাদের দলের শামিম আর শাহাদাত অনেক ক্লান্ত থাকায় ওরা বিছানায় শুয়ে পরলো কিছুটা বিশ্রাম নেয়ার জন্য. এই ফাকে আমরা বাকি ৬ জন মিলে একটা কমিটি গঠন করলাম. যেই কমিটির কাজ হলো কি কি লাগতে পারে তা লিস্ট করা. সময়ের সাথে আলোচনায় গতি পেল, বাড়তে থাকলো লিস্টের লাইন. এর মধ্যে আমাদের একজন আবার তার বন্ধুকে ফোন করলো বারবি-কিউ করতে গেলে কি কি লাগতে পারে, আর আমাদের বর্তমান অবস্থার কথা(আমাদের কিছুই নাই). সেই বন্ধু বুদ্ধি দিলো, মাছের মশলা প্রস্তুত করার থেকে বাজারে মশলা প্যাকেট পাওয়া যায় ৫ টাকা করে, সেইগুলা ১০ তা কিনে নিতে. যাই হোউক, আমাদের লিস্ট ফাইনাল করার পরে বেরিয়ে পরলাম বাজারে, শাহাদাত আর শামিমকে রেখে গেলাম বিশ্রাম নেয়ার পাশাপাশি রুম পাহারা দেয়ার জন্য.

সরঞ্জাম যোগাড় করণ:

সন্ধা নেমে গেছে, গ্রামের বাজার, মাছওয়ালা হয়তো আর বেশিক্ষণ থাকবে না. তাই প্রথমেই গেলাম মাছ বাজারে. রুই মাছ কিনলাম ৪ টা, ওজন ১.৫ কেজি ২৭০ টাকা দিয়ে. মাছ কিনার সময় বলেনিয়েছিলাম আমাদেরকে মাছের পেট কেটে পরিষ্কার করে দিতে হবে, আর ভালো করে ধুয়ে দিতে হবে. মাছওয়ালাটা ভালই সাহায্য করলো আমাদেরকে. গ্রামের মাছের বাজার, তার কাছেতো আর দা-বটি থাকার কথা না. তাই কেটে দেয়ার জন্য কাছের একটা হোটেলে গেল বটি নেয়ার জন্য. সেখান থেকে বটি নিয়ে আমাদের চাহিদা মতন মাছকে পরিষ্কার করে দিলো. লোকটা এই কাজের জন্য আমাদের থেকে ১০ টাকা নিলো.

বারবি-কিউ এর জন্য মাছ এখন প্রস্তুত


এইবার অন্যান্ন জিনিসপত্র কেনার পালা. প্রথমে কিনলাম গুড়ামরিচের পেকেট. দোকানদারকে বললাম আমাদের ইচ্ছার কথা. সে আর কিছু দিয়ে আমাদের সাহায্য করতে পারলোনা. যেহেতু লবন লাগবে, তাই কিছু লবন আমাদেরকে ফ্রী ফ্রী দিয়ে দিলো. এর পরে খোজা শুরু করলাম মাছের মশলা. এমনিতেই গ্রাম্য একটা আবহ আছে তাহিরপুরে(যদিও থানা), তাই আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম. কয়েকটা দোকানে মুরগির মশলা পাওয়া যায়. একরকম স্থির করেই ফেলেছিলাম মুরগীর মসল্লা দিয়েই হবে মাছের বারবি-কিউ. কিন্তু হঠাত করেই এক দোকানে পেয়ে গেলাম মাছের মশলা. এই প্যাকেটের আবার দাম একেকটার ৮ টাকা করে. আমাদের যেহেতু ৫ টাকার ১০ টা পেকেট নেয়ার কথা ছিল, তাই আমরা নিলাম ৬ প্যাকেট, ৪৮ টাকা দিয়ে. ওই দোকান থেকেই সরিষা তেল কিনলাম, ২৭ টাকা দিয়ে একটা ছোট শিশি.

সারা বাজারে খুজেও কোথাও কয়লা পেলাম না. এখানে বেশকিছু হোটেল থাকলেও, এরা মেশিনে বানানো একধরনের কয়েল ব্যবহার করে রান্নার জন্য, যেইটাতে কয়লা হয়না. একজন বুদ্ধি দিলো মিষ্টির দোকানে খোজ নেয়ার জন্য, কেননা মিষ্টি বানাতে অনেক তাপ দরকার হয়, আর কাঠ ছাড়া সেই তাপ হবে না. তাই গেলাম মিষ্টির দোকানে. দোকানের ছেলেটা প্রথমেই বললো কয়লা হবে না. কিন্তু আমরা নাছোড় বান্দা. মিষ্টি খেতে বসে পরলাম দোকানেই. খেতে খেতে ছেলেটার সাথে আলাপের চেষ্টা করলাম. অনেক ব্যাস্ত থাকায় ছেলেটা আমাদের সাথে কথাও ভালো করে বলতে পারছিলোনা. যাই হোউক, শেষপর্যন্ত স্বীকার করলো যে ওদের ওখানে কয়লা আছে, আর আমরা যদি একটু পরে আসি তখন ও আমাদের কে কয়লা দিতে পারবে. বেরিয়ে পরলাম অন্যান্য জিনিস যোগাড় করার কাজে.

কয়লা সাজানো হচ্ছে


এর মধ্যে আমরা আবার ঠিক করে ফেলেছি নেট ব্যবহার করবো কলাপাতার বদলে. কেননা আজকে সারাদিনেও তাহিরপুরে খুব একটা কলাগাছের দেখা পাইনাই. তাই এই রাতের বেলায় যদিও গাছের দেখা পাই, গাছের মালিক রাতকরে পাতা ছিড়তে দিবে কিনা সেইটাও সন্দেহ ছিল. তাই নেট ব্যাবহারের সিদ্ধান্ত হলো. একটা দোকান থেকে নেট কিনলাম ৫০ টাকা দিয়ে. ২ ফুট মনে হয় দৈর্ঘ্য ছিল. এরপরে বারবি-কিউ করে খাবো কিসে? তাই কিনলাম ওয়ান টাইম প্লেট, ১০ টাকা করে ৫ টা. আর দুইটা ওয়ান টাইম গ্লাস ১০ টাকা করে. এরপরে কেরোসিন কেনার পালা. দোকানে গেলাম, কিন্তু ওরা কোন কিছুতে দিতে পারছিলোনা কেরোসিন. উপায় না দেখে আমরা অধ লিটারের পানির বোতল কিনলাম. সবাই মিলে ওই পানি খেয়ে খালি বোতল নিয়ে গেলাম ২০০ গ্রাম কেরোসিন তেল কিনতে, ১২ টাকা দিয়ে কিনলাম. মাছ নাড়ানোর জন্য কিছু একটা দরকার, তাই কিনলাম সাইকেলের স্পোক, যা দিয়ে মাছকে নাড়ানো যাবে. ৪ টা মনে হয় কিনেছিলাম ৮ টাকা দিয়ে. আসার সময় বাজার থেকে আধ কেজি টাটকা পাকা টমেটো কিনে নিলাম ৬ টাকা দিয়ে আর সেই মিষ্টির দোকান থেকে কয়লা নিলাম এক ব্যাগ ৩০ টাকার. মোটামুটি সব কিছু যোগাড়জন্ত করা শেষ.

ছবিতে দেখো, কেমন করে সাইকেলের স্পোক বেকিয়ে চিমটার মতন করেছি মাছ কে ধরার জন্য.


বারবি-কিউ করা:

রাতে ডিনারের পরে নেমে পরলাম বারবি-কিউ করতে. একটা প্লেটে গুরামরিচ, লবন, মাছের মশলা, সরিষার তেল সব পরিমান মতন ঢেলে মাখলাম. এর পরে মাছ ভালো করে আরেকবার ধুয়ে তাতে মশলা মেখে দিলাম. মশলা মাখানোর পরে নেমে পরলাম ইট খোজার কাজে. কয়েকটা ইট যোগাড় করে তার মাঝে কয়লা দিয়ে উপরে নেট বিছিয়ে দিলাম. আর কয়লায় একটু কেরোসিন ঢেলে তাতে আগুন ধরাতে শুরু করে দিলাম. মোটামুটি কয়লা যখন সব জ্বলতে শুরু করলো, তখন একটা একটা করে মাছ নেটের উপরে বসিয়ে দিলাম. এর পরে শুধু কয়লায় হালকা বাতাস করা. কয়লায় তাপ ছিল প্রচন্ড, তাই ১০ মিনিটও লাগে নাই মাছ বারবি-কিউ হয়ে যেতে.

ক্যামেরার রাতের মোডে বারবি-কিউ এর ছবি.


সমাপ্তি:

দিনের বেলাতেই উপজেলা পরিষদের একজন হিসাবরক্ষকের সাথে পরিচয় হয়েছিল. রাতের বেলায় আমাদের হইচই দেখে চলে এলো দেখতে. আমাদের কান্ডকারখানা দেখে, আর কিভাবে সব করলাম শুনে লোকটা অনেক মজা পেলো. আমরা তাকে একটু টেস্ট করে দেখতে বললাম কেমন হলো. গেস্ট হাউসের ভিআইপি রুমে কিছু ছেলে উঠেছিল, ওরাও বেরিয়ে এলো দেখার জন্য. আমরা ওদেরকে দেখিয়ে দেখিয়ে খাচ্ছিলাম, আর সাধলাম আমাদের থেকে খেয়ে দেখার জন্য. একটা ভাব তখন কাজ করছিলো আমাদের মধ্যে, কারণ আমরা অনেক মজা করছি, আর ওরা এই শীতের রাত্রে ঘরের মধ্যে জুবুথুবু হয়ে বসে আছে.

আমার সাথে যেই ৭ জন এই ভ্রমনে ছিলো, তাদের নাম শামিম, শাহাদাত, নিক্সন, রুহী, ওসমান, এহসান, অনিক.

Note: Normally I don't write articles in complete Bengali. Since this one is not an informative article, I have written this in my native language to express in a better way.

5 comments:

  1. Great adventure! And you did it! You people have proved that if there is will, there is a way.

    ReplyDelete
  2. Ausumn experience undoubtedly. Keep on travelling and keep on posting more..

    ReplyDelete
  3. I feel like going there right away...... I am going to plan an all-girl-trip to the haor...do you think it will be safe to do so? Please advise.

    Sonia

    ReplyDelete
    Replies
    1. Bangladesh is still not that much advanced to accept lot of things. People are not habituated to seeing all girls outing. But you can standout and become the pioneer of doing such things. Its not about girls or boys, security measures are important for everyone.

      Delete